• বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন

দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে চান প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ৫৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অগ্নিসন্ত্রাসের মতো মানুষের তৈরি দুর্যোগ মোকাবিলা করেও আমরা উন্নয়নের পথে দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে চাই। তিনি জানান, তার সরকার চায় বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক।

রোববার (২০ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নবনির্মিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন ও তথ্য কমিশন ভবন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) কমপ্লেক্সেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

দেশটাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলাই তার সরকারের লক্ষ্য এবং এ মাসেই জাতির পিতাকে হারানোর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতার তৈরি করে দেওয়া ভিত্তি বা শুরু করে যাওয়া প্রতিটি কাজ সফলভাবে করতে পেরে আমি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

তিনি বলেন, জনগণ আমাদের বার বার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন বলেই এ কাজগুলো আমরা করতে পেরেছি। বাংলাদেশে ২০০৯ সাল থেকে আজ ২০২৩ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সরকার চলছে, দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। যদিও এর মধ্যে আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মনুষের তৈরি দুর্যোগ এবং অগ্নিসন্ত্রাস-এমন অনেক কিছুই মোকাবিলা করতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে সেটাই আমরা চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে এ বাংলাদেশকে আমরা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেখানে আমাদের স্মার্ট জনগোষ্ঠী হবে, স্মার্ট ইকোনমি হবে, স্মার্ট সোসাইটি হবে, স্মার্ট গভর্নমেন্ট তথা প্রতিটি ক্ষেত্রই স্মার্ট হবে।

তিনি আরও বলেন, সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই তার সরকার সব ক্ষেত্রেই আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনগোষ্ঠী, সমাজ এবং দেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা এটা সফলভাবে করতে পারবো। বাংলাদেশে কোনো ক্ষুধা-দারিদ্র্য থাকবে না, কোনো মানুষ কষ্ট পাবে না, প্রত্যেক ভূমিহীন মানুষ ঘর পাবে, প্রতিটি মানুষের জীবন মান উন্নত হবে।

তিনি তার সরকারের চালু করা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আগে অবসর ভাতা কেবল সরকারি কর্মকর্তারাই পেতেন, সেটা আমরা এখন সর্বজনীন করে দিয়েছি। কেন না যখন তাদের (অবসরে যাওয়া বেসরকারি কর্মজীবী) কাজ করার সুযোগ থাকবে না তখন তাদের জীবনটা যেন অর্থবহ থাকে এবং প্রত্যেক মানুষের জীবনটা যেন নিরাপদ হয়।

বিএফডিসি কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি এক একর জমিতে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বিটিআরসি ভবন এবং ০.৩৫ একর জমিতে তথ্য কমিশন ভবন উদ্বোধনের পর তিনি বলেন, আমরা যখনই কোনো উন্নয়নের উদ্যোগ নিই, তখনই দেখতে পাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভিত্তি প্রদান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার পদচিহ্ন অনুসরণ করে বাংলাদেশ ও এর জনগণের উন্নয়নে কাজ করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছেন।

অনুষ্ঠানে বিটিআরসি ভবন, তথ্য কমিশন ভবন এবং বিএফডিসি কমপ্লেক্স (তেজগাঁও) সংযুক্ত ছিল।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে নবনির্মিত বিটিআরসি ও তথ্য কমিশন ভবন এবং বিএফডিসি কমপ্লেক্সের ওপর একটি অডিও-ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতে তার সরকারের প্রচেষ্টার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তথ্য চাওয়া এবং তথ্য পাওয়া মানুষের অধিকার। সেই অধিকার আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি এবং এখন মানুষ কোন তথ্য চাইলে তা পেতে পারে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে। আওয়ামী লীগের কোনো রাখঢাক (গোপনীয়) কিছু নেই। কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে সেই চিন্তা আমাদের নেই। আমরা যা করবো সম্পূর্ণভাবে জনগণকে জানিয়ে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেই করবো। জনগণের কল্যাণ করাটাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর নবম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তথ্য অধিকার আইন পাস করে এবং এর আওতায় ‘তথ্য কমিশন’ গঠন করে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেয় এবং কমিশনের নিজস্ব ভবন নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার বেরকারি খাত উন্মুক্ত করে দেওয়ায় দেশে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি হয়-এমন অভিমত ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমরাই বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি ওয়ার্ল্ড এবং সংসদ টেলিভিশনের পাশাপাশি ৪৪টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, ২২টি এফএম রেডিও এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও, ১৪টি আইপি টিভিসহ অসংখ্য সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টালের অনুমোদন দিয়েছি। আমরা সাংবাদিকদের কল্যাণে ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা করেছি। জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৭, জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ সহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা টেলিডেনসিটি ১০৪ শতাংশে উন্নীত করেছি। দেশে এখন মোবাইল গ্রাহক ১৮ কোটির ওপরে। ১৭ কোটি মানুষ কিন্তু সিম ব্যবহার হচ্ছে ১৮ কোটির ওপরে। মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে এমন গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লাখ।

সরকার ‘চলচ্চিত্র সংসদ নিবন্ধন আইন ২০১১’, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) আইন-২০১৯’ প্রণয়ন করেছে। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট’।

তিনি আরও জানান, পাশাপাশি সিনেমা হল মালিকদের দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী ব্যাংক ঋণ দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সরকারি অনুদান বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রণীত হয়েছে চলচ্চিত্র নীতিমালা।

তিনি জানান, ‘বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। হাতিরঝিল প্রকল্পের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যরে সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটির ভূমি ব্যবহার করা হচ্ছে। কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ফ্লোরে সবধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রাখা হয়েছে যাতে একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা একটি পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তা প্রদর্শন করার সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ