• বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৭:২৯ অপরাহ্ন

ডেঙ্গু : আগস্ট-সেপ্টেম্বর নিয়েও ভয়

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ৫৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩

বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের ডেঙ্গু শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, দুই সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দাবি করা ‘সর্বোচ্চ’ চেষ্টার মধ্যেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে আক্রান্ত রোগী এবং লাশের সারি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশা আগের তুলনায় এখন অনেক ‘স্মার্ট’ হয়েছে। তার ধরন পাল্টেছে। এ অবস্থায় দায়িত্বশীলদের ‘লোক দেখানো’ অভিযান পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম একটি ওয়ার্ড হলো বাড্ডা এলাকা। সরেজমিনে পূর্ব বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা ও মেরুল বাড্ডা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন অলিগলির রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। এলাকাগুলোতে বসবাসরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদিন বৃষ্টি হলে এক সপ্তাহেও রাস্তাঘাটের পানি সরে না। এমনকি গত দুই মাসে এসব এলাকায় এডিস মশার নিধনে সিটি কর্পোরেশনের কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি।

সরেজমিনে ডিআইটি প্রজেক্টের খেলার মাঠ, বাগানবাড়ি, কৃষি ব্যাংক রোডসহ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তাঘাটে তিন থেকে চারদিনের পানিও জমে আছে। এছাড়া বাসাবাড়ির পাশে বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পানি জমে আছে। এগুলোতে কোনো নজর নেই সিটি কর্পোরেশনের।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম একটি ওয়ার্ড হলো বাড্ডা এলাকা। সরেজমিনে পূর্ব বাড্ডা, উত্তর বাড্ডা ও মেরুল বাড্ডা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন অলিগলির রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে আছে। এলাকাগুলোতে বসবাসরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদিন বৃষ্টি হলে এক সপ্তাহেও রাস্তাঘাটের পানি সরে না। এমনকি গত দুই মাসে এসব এলাকায় এডিস মশার নিধনে সিটি কর্পোরেশনের কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি

মাসের পর মাস জমে আছে পানি, কারও নজর নেই

মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার ৬ নম্বর রোডের ব্যবসায়ী এনামুল করিমের সঙ্গে কথা হয় । তিনি বলেন, একদিন বৃষ্টি হলে কমপক্ষে দুদিন আমাদের ব্যবসা বন্ধ থাকে। দোকানের সামনের রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকে। সিটি কর্পোরেশনের লোকদের ফোন দিলেও তারা আসে না। এলাকার কমিশনারের কাছে বারবার গিয়ে বলা হলেও পানি নিষ্কাশন নিয়ে স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।

‘ডিআইটি প্রজেক্টের ৩ ও ৪ নম্বর রোড এলাকায় সবসময়ই পানি জমে থাকে। কোনোদিন পানি পরিষ্কার বা এডিসের লার্ভা ধ্বংসের কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। এসব কারণে আমরা শুধু ব্যবসায়িকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না, ডেঙ্গু সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছি এবং আমাদের বাচ্চারাও ভয়াবহ ঝুঁকিতে আছে।’

ডিআইটি প্রজেক্টের বাগানবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, আমাদের এলাকায় একদিন বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে থাকে অন্তত এক সপ্তাহ। প্রতিটি ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। সিটি কর্পোরেশনের লোকদের বারবার ফোন দিয়েও আনা সম্ভব হয় না। তাছাড়া ড্রেনগুলো এতটাই সরু যে ১০ মিনিটও যদি ভারি বৃষ্টিপাত হয়, তাহলে আর কোনোদিকেই পানি যায় না। ফলে রাস্তায় হাঁটু পরিমাণ পানি জমে।

‘এলাকায় এত পরিমাণ মশা যে দিনের বেলায়ও মশারি টানিয়ে রাখতে হয়। আমি নিজেই কিছুদিন আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছি। এর আগে স্ত্রী-মেয়েও আক্রান্ত হয়। শুধু আমার ঘরেই এ অবস্থা নয়, এলাকার প্রায় প্রতিটি ঘরেই গত এক-দুই মাসে কেউ না কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।’

ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে দুই সিটির ৫৫ ওয়ার্ড

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ৯৮টি ওয়ার্ডে গত ১৮ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত বর্ষা মৌসুম পূর্ব জরিপ পরিচালনা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকা উত্তরের ৪০টি এবং দক্ষিণের ৫৮টি ওয়ার্ডে পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার ৪৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ বহুতল ভবনে, ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ সাধারণ বাসাবাড়িতে এবং ১৮ দশমিক ২১ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। জরিপে দুই সিটির ৫৫টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা হিসেবেও চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ঢাকা উত্তর সিটির ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড- ২, ৩, ৫, ৬, ১০, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৫, ৩৭ ও ৩৮। এছাড়া মিরপুর, পল্লবী, মাজার রোড, পীরের বাগ, মনিপুর, শ্যাওড়াপাড়া, কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, খিলক্ষেত, কুড়িল, জোয়ার সাহারা, বনানী, গুলশান, বারিধারা, মহাখালী, রামপুরা, খিলগাঁও, মালিবাগ, কারওয়ান বাজার, তেজতুরি বাজার, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, বায়তুল আমান, মগবাজার, ইস্কাটন, বাড্ডা পড়েছে এসব ওয়ার্ডের আওতায়।

দক্ষিণ সিটির ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড- ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৮, ১৯, ২২, ২৩, ২৬, ৩৩, ৩৪, ৩৬, ৪১, ৪৪, ৪৬, ৪৮, ৫০, ৫১, ৫৪, ৫৫ ও ৫৭। এর ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। গোরান, মেরাদিয়া, বাসাবো, সবুজবাগ, মুগদা, মাদারটেক, ফকিরাপুল, আরামবাগ, শাহজাহানপুর, রাজারবাগ, পুরানা পল্টন, বায়তুল মোকাররম, ধানমন্ডি, রায়েরবাজার, নীলক্ষেত, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, এলিফ্যান্ট রোড, মিন্টো রোড, কাকরাইল, হাজারীবাগ, লালবাগ, আজিমপুর, পলাশী, বংশাল, সিদ্দিকবাজার, শাঁখারিবাজার, রায় সাহেব বাজার, ওয়ারী, সূত্রাপুর, মিলব্যারাক, সায়েদাবাদ, উত্তর যাত্রাবাড়ী, মীরহাজিরবাগ, ধোলাইপাড়, গেন্ডারিয়া, জুরাইন ও কামরাঙ্গীরচর এসব ওয়ার্ডের আওতায় পড়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটির ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো- ২, ৩, ৫, ৬, ১০, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৫, ৩৭ ও ৩৮। দক্ষিণ সিটির ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো- ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৮, ১৯, ২২, ২৩, ২৬, ৩৩, ৩৪, ৩৬, ৪১, ৪৪, ৪৬, ৪৮, ৫০, ৫১, ৫৪, ৫৫ ও ৫৭

ঈদের পর রোগী বাড়ছে মিটফোর্ড হাসপাতালে

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মিটফোর্ড) সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিতে বর্তমানে ডেঙ্গুরোগী ভর্তি আছে ১০১ জন। এর মধ্যে ৮৯ জন প্রাপ্ত বয়স্ক এবং বাকি ১২ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত) হাসপাতালে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে ৩২ জন। এর আগের দিন ২৮ জন এবং তারও আগের দিন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছিল ২১ জন।

ডেঙ্গুর রোগী প্রসঙ্গে মিটফোর্ড পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী রশীদ-উন-নবী বলেন, ঈদের পর থেকে আমাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে গত তিনদিনে ভর্তির সিকুয়েন্স যদি দেখি তাহলে মনে হচ্ছে সংক্রমণ কিছুটা বাড়ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় নয়শো রোগী। এর মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন।

কোন এলাকা থেকে রোগী বেশি আসছে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালটি পুরান ঢাকায় হওয়ায় এখানে বেশির ভাগ রোগীই কামরাঙ্গীরচর, কেরানীগঞ্জ, জুরাইন, গেন্ডারিয়াসহ আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে আসে।

আক্রান্তদের অধিকাংশেরই মৃদু উপসর্গ

ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার আক্রান্ত হওয়া রোগী কেমন আসছে— জানতে চাইলে মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক বলেন, অনেকেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় মৃদু উপসর্গ নিয়ে। যে কারণে অনেক রোগী বুঝতে পারেন না যে তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি যদি দ্বিতীয়বারও আক্রান্ত হন, বুঝতেই পারবেন না। কিছু রোগী এসে বলেন যে আমি এর আগে আক্রান্ত হয়েছিলাম। কিন্তু তাদেরকে দিয়ে তো আমরা বলতে পারছি না, শুধু তারাই দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার আক্রান্ত হয়েছেন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ