• শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন

সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার এর অভিনব প্রতারণা

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ৩৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলা দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসি’র বিরুদ্ধে অভিনব প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় ০৩-০৩-০৪ সালে দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয় সাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী ওরফে জজ মিয়া ও নাসিমা খানম নামে দুইজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেন বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসি,সরকারি তালিকাভুক্ত যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বিধি বিধান থাকলেও প্রধান শিক্ষক তার একক ক্ষমতা বলে কোন প্রকার বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে উপর মহল কে ম্যানেজ করে কোন প্রকার জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে অভিযুক্ত উক্ত দুইজন শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করেন।উক্ত দুজন সহকারী শিক্ষক নিয়োগে জাল জালিয়াতির কারণে নিয়োগ প্রাপ্ত দুইজন সহকারি শিক্ষক সাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী ওরফে জজ মিয়া ও নাসিমা খানম ০৩-০৩-০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত উক্ত বিদ্যালয় উপস্থিত হন নাই।কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল -০৩-০৩-০০৪ সাল থেকে স্কুলে উপস্থিত না হয়েও প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসি’র সু’চতুরতার মাধ্যমে সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার উপরে উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।পরবর্তীতে দীর্ঘ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার পর ২০১১ সালের শেষ যখন সহকারী শিক্ষক শাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী ওরফে জজ মিয়া ও নাসিমিয়া খানম স্কুলে উপস্থিত হয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করলে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন এবং এলাকাবাসী জানতে চান আপনারা কোত্থেকে আসছেন কবে আমাদের দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন উত্তরে শাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী ও নাসিমা খানম বলেন আমরা ৩-৩ ২০০৪ সালে নিয়োগ পেয়েছি প্রতি উত্তরে এলাকাবাসী তাদের কাছে জানতে চান এতদিন আপনারা কেন বিদ্যালয়ের অনুপস্থিতি ছিলেন?এলাকাবাসীর প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে না পেরে আবারো বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যান।পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক তার সু’চতুরতা ও অপ কৌশলের মাধ্যমে অভিযুক্ত দুই সরকারি শিক্ষককে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে সকল ব্যবস্থা করেন প্রধান শিক্ষকের এই সকল অপকর্মের ফলে এলাকাবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে অনুসন্ধানে গিয়ে আরো জানা যায় অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসি একজন আপাদমস্তক দুর্নীতিবাজ এবং তার এই সকল অপকর্ম দুর্নীতির প্রধান সহযোগী অত্র প্রতিষ্ঠানে জাল জালিয়াতের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা খানামের স্বামী আব্দুর রশিদ মাস্টার।এলাকাবাসীরা আরো জানান প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসি নিজেকে উচ্চ ক্ষমতাবান ব্যক্তি দাবি করেন এবং অভিভাবক প্রতিনিধিদের সাথেও মাঝে মাঝে বিরূপ আচরণ করে অহমিকার সাথে বলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার থেকে শুরু করে উপরমহল পর্যন্ত সবাইকে ম্যানেজ করেই আমি দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছি কেউ আমার কিছুই করতে পারবে না।অনুসন্ধানে আরো জানা যায় সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা খানমের অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষার শিক্ষা সনদ জাল আর এই সকল জাল জালিয়াতির মূল হোতা সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা খানামের স্বামী রশিদ মাস্টার।অভিযোগের সূত্র ধরে সহকারী শিক্ষিকা নাসিমা খানমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তার অনার্স ও মাস্টার্সের শিক্ষা সনদ জাল এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আমি হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আপনার প্রশ্নের উত্তর জানাচ্ছি।পরবর্তীতে বিগত চার দিন নাসিমা খানমের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিয়ে ও খুঁদে বার্তা পাঠিলেও কোন প্রকার সাড়া পাওয়া যায়নি।অভিযুক্ত আরেকজন সহকারি শিক্ষক শাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী ওরফে জজ মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আমি দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয় -০৩-০৩ ২০০৪ সালের যোগদান করেছি।প্রতিবেদক যখন তার কাছে জানতে চান ০-৩-০৩-২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত কেন বিদ্যালয় উপস্থিত ছিলেন না প্রতিবেদকের প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে সাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী জজ মিয়া মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।পরবর্তীতে একাধিকবার তার মুঠো ফোনে ফোন দিয়ে ও খুদেবার্তা পাঠালে কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।পরবর্তীতে দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয় এর সকল অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে জানতে দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসির মুঠো ফোনে যোগাযোগ করে ০৩-০৩-২০০৪ সালে সহকারী শিক্ষক সাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী ও নাসিম খানমের নিয়োগে জাতীয় কোন কোন পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে? এবং নিয়োগকৃত সাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী ও নাসিমা খানম ০৩-০৩-২০০৪ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর ২০১১ পর্যন্ত স্কুলে অনুপস্থিত থাকার পরেও সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা বেতন-ভাতা সহ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা আপনার যোগসাজসে উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করা নিয়েছেন, এমনকি চতুর্থ শ্রেণীর তিনজন কর্মচারী নিয়োগে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার উপরে নেওয়া ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগে আপনার জালজালিয়াতির যাবতীয় সকল তথ্য প্রমান সংরক্ষিত প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে শুধু বলতে থাকেন বলেন বলেন এতেই প্রতিয়মান হয় যে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসি সকল অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত।
অন্য দিকে সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ঝুমা সরকারের মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন আমি ১০ লক্ষ টাকা দামের জমি প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার স্যার এর নামে লিখে দিয়ে তারপরে চাকরি নিয়েছি।দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক আব্দুল সাত্তার বিএসসির অনিয়ম দুর্নীতি অপকর্মের বিষয়ে জানতে অত্র প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্য কামাল হোসেন মৃধার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল সাত্তার বিএসসির এই সকল অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে আমরা অবগত আছি কিন্তু আমরা অবগত থাকলে কি হবে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসির অদৃশ্য শক্তির কাছে আমরা অসহায় এবং তিনি আমাদের অভিভাবক প্রতিনিধি সদস্যদের সাথে কোন প্রকার আলাপ আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ মনে করেন না।অভিভাবক প্রতিনিধিদের মধ্যে এক জন নারী সদস্য নাম প্রকাশ না করা শর্তে এই প্রতিবেদক কে বলেন আমাদের দক্ষিণগাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্কুলের নিয়োগ এবং উন্নয়ন সহ কোন কার্যক্রমে আমাদের সাথে পরামর্শ করার প্রয়োজন বোধ মনে করেন না এমনকি মাঝেমধ্যে আমাদের কোন কাগজপত্র স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে আমাদের মুঠোফোন যোগাযোগ করে বলে স্কুলে এসে স্বাক্ষর দিয়ে যান এবং স্বাক্ষর দিতে গিয়ে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে যান তাই আমরা এইরকম অনিয়ম দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষকের যথাযথ শাস্তি চাই।এখানে উল্লেখ থাকে যে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী পরপর একই ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি কোন বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে থাকিতে পারিবে না কিন্তু দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমান সভাপতি নিলা আহমেদ মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা কে উপেক্ষা করে পরপর দুই মেয়াদের বেশি অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসি’র সহকারী শিক্ষক নিয়োগে অভিনব প্রতারণা সহ নজিরবিহীন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে জানতে বর্তমান সভাপতি নীলা আহমেদ এর মুঠোফোন নাম্বার প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসি’র নিকট চাওয়া হলে তিনি মুঠো ফোন নাম্বার বা ঠিকানা এই প্রতিবেদককে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।দক্ষিণগাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষকের অভিনব প্রতারণার বিষয়ে জানতে কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালামের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত শুনার পর এই প্রতিবেদক কে বলেন আমি প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার সাহেবকে বলছি মুঠো ফোনে আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য।অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন দক্ষিণ গাও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি নিয়োগ অনিবার্য কারণবশত স্থগিত রাখা হয়েছে।কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম এর এমন উত্তরে প্রতিবেদক প্রশ্ন রাখেন তাহলে কিভাবে জুমা সরকার ও ইব্রাহিম গংরা দক্ষিণ গাঁও মির্জানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে স্বপদে স্বপদে দায়িত্ব পালন করছেন?এমন প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে তিনি মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।এখন প্রশ্ন হল নিয়োগ প্রাপ্ত চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বক্তব্য তারা নিয়োগ পত্র পেয়েছেন আর নিয়োগপত্র পেয়েই তারা প্রতিদিন কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম সাহেবের বক্তব্য নিয়োগ প্রক্রিয়া দিন দুই পক্ষের এমন রহস্যময় বক্তব্য বোধগম্য নয়। বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাত্তার বিএসসির সকল অনিয়ম দুর্নীতি তথ্য প্রমান সংরক্ষিত। অনুসন্ধান চলমান বিস্তারিত আগামী পর্বে…


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ