• শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০২:০১ পূর্বাহ্ন

বাবা হারানোর বেদনার স্মৃতি ভুলে যাওয়া অসম্ভব

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ৮৩ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় রবিবার, ৫ মে, ২০২৪

— মোঃ মহসিন হোসাইন —

আস্থা, ভরসা আর পরম নির্ভরতার নাম বাবা। বাবা এমন এক বৃক্ষ, যে বৃক্ষের ছায়ায় আস্থার খোরাকে বেঁচে থাকার শক্তি পায় সন্তান। প্রতিটি সন্তানের কাছেই বাবা মানে শক্তি আর সাহস। বাবার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। এ ভালোবাসা বিশেষ কোনো একদিনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না। বাবা-মায়ের জন্য ভালোবাসা প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ। যদিও বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ দিন হিসেবে প্রতি বছর নির্দিষ্ট করে একটি দিন পালিত হয়ে আসছে। আসলে বাবা-মায়ের জন্য ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট দিন নেই। সন্তানের জন্য প্রতিদিন বাবা দিবস এবং প্রতিদিনই মা দিবস। বাবা মানে একটু শাসন, অনেক ভালোবাসা। প্রতিটি মানুষের জীবনে বাবা ছাদ হয়ে থাকেন। কালবৈশাখী ঝড়ে হঠাৎ ভেঙে যাওয়া বটবৃক্ষের মতো হয়তো কারও কারও জীবনে বাবা নামক বৃক্ষটি হারিয়ে যায়। তখন বটবৃক্ষের নিচে থাকা গাছগুলোর মতো বাবাহারা সন্তাদের সমস্ত ঝড়-বৃষ্টি-রোদ মোকাবেলা করে পৃথিবীতে টিকে থাকতে হয়। অনেকে হয়তো ঝড়ের তা-বে জীবন থেকেই হারিয়ে যান। বাবা একটি শব্দ ও দুটি বর্ণের হৃদয়ের স্পন্দন। বাবাকে নিয়ে যত কথা, যত স্মৃতি সেটি কয়েক কোটি শব্দ দিয়েও পূরণ করার নয়। আমার বাবা ২০১৩ সালের ৪ মে সকাল ৮টার সময় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে কাঁদিয়ে গেলেন আমাদের। দেখতে দেখতে ১১টি বছর চলে গেল। কিন্তু আজও বাবার স্মৃতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি। বাকি জীবনের জন্য খুঁজে পাচ্ছি আত্মবিশ্বাস। আমি গর্ব করি আমার বাবাকে নিয়ে। আমার বাবা মরহুম মনির হোসেন ছিলেন একজন সৎ, প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি। অল্প সময়েই তার নাম ডাক সুনাম চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় ব্যাপক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি কচুয়া পৌসভার ৫নং ওয়ার্ড কড়ইয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে উনার বলিষ্ঠ ভূমিকা সবসময় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এখনো তার সহযোদ্ধারা তাকে নিয়ে গল্প করে, একজন সন্তান হিসেবে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। আমার কাছে আমার বাবা পুরো পৃথিবীর সেরা বাবা। কোনো দিবসে নয়, যতদিন বেঁচে আছি বাবাকে নিয়ে আমার প্রতিটিক্ষণ মধুময় হয়ে থাকবে। ‘বাবা আমি তোমাকে ভালোবাসি’- এই কথাটি কোনোদিন বলা হয়নি। বাবা সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি আর মিস করি প্রতিনিয়ত। মাঝে মাঝে এমন একটা সময় সবার জীবনেই আসে, যখন মানুষ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে। তখন কারো পরামর্শ খুব জরুরী হয়ে উঠে। সে সময়ে পাশে দাঁড়ানোর মতো আদর্শ একজন মানুষ হচ্ছেন- বাবা। স্বভাবগত গাম্ভীর্যের জন্য বাবার সাথে সবার ঘনিষ্ঠতা একটু কম থাকে। কিন্তু সে মানুষের আমাদের প্রতি ভালোবাসার কোন ঘাটতি থাকে না। ‘বাবা আমি তোমাকে ভালোবাসি’- এই কথাটি কোনোদিন বলা হয় নি। বাবা, সত্যি তোমাকে অনেক ভালোবাসি আর মিস করি প্রতিনিয়ত। আমি একজন সাহসী ও বিপ্লবী মানুষের সন্তান, যার পরিচয় দিতে গর্বে বুকটা ভরে উঠে। মানুষের সামনে যখন তোমার ছেলে বলে পরিচয় দেই, তখন মানুষের ভালবাসা আর স্নেহ কমতি তাকে না। বাবা তুমি অসহায় আর গরিবের পাশে থাকতে সব সময়। সেই কথা গুলো যখন মানুষজন বলে তখনই বাবা মনটা ভরে উটে। আর আমি সেই পথে গরিব অসহায় মানুষের পাশে থাকার ইচ্ছা জাগে। একটা সময় কতোবার কল্পনা করেছি, বাবার মৃত্যু একটা দুঃস্বপ্ন মাত্র, যেকোনো সময় বাবা ফিরে আসবে। এখনো মাঝেমধ্যে স্বপ্ন দেখি, আমি আর বাবা হাঁটছি কোন রাস্তা দিয়ে। প্রতিটি মুহূর্তে বাবাকে মিস করি। আমি সবসময় মনে করি বাবা ছাড়া আমি একজন অসম্পূর্ণ মানুষ। বাবা থাকলে যা কিছু হতো, যা শিখতাম, বাবার অবর্তমানে তা হয় নি আমার জীবনে। সবসময় মনে হয়, আমার মাথার উপর কোন বটবৃক্ষের ছায়া নেই। বাবা প্রবাসে বসবাস করার কারণে বাবার সঙ্গে জীবনের খুব অল্প সময় কাটিয়েছি আমি, তাই বাবাকে নিয়ে আমার খুব বেশি স্মৃতি নেই। কিন্তু বুকের গভীরে কোথাও একটা স্মৃতিসৌধ আছে যার মুখোমুখি দাঁড়ালেই বাবাকে মনে পড়ে, দেখতে পাই সেই বটবৃক্ষকে যাকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। অনুভবে স্পর্শ করতে পারি বাবার অস্তিত্ব। বাবা খুব বিপদে ফেলে গেছেন আমাকে! তিনি মাকে বলে গিয়েছিলেন, তার ছেলে অনেক বড় মানুষ হবে। বাবা, মানুষ আজও হতে পারিনি, তবে তোমার ইচ্ছে পূরণে প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙ্গে মানুষ হয়ার চেষ্টায় রত তোমার সন্তান। বাবা, তুমি কেন চলে গেলে? প্রকৃতির এ নিষ্ঠুরতা আমি মানতে পারছি না, বাবা! প্রতিদিন নামাজের শেষে আমি তোমার শেখানো দোয়া দিয়েই তোমার জন্যে দোয়া করি। কি জানি, হয়ত তোমার মা-বাবার জন্যে দোয়া করে তুমিই সে শিক্ষা আমাদের দিয়ে ছিলে। আমি একজন সৎ সাহসী ও বিপ্লবী মানুষের সন্তান, যার পরিচয় দিতে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। আমার বয়স যখন ২০ বছর তখন বাবাকে হারালাম এখন যখন সমাজে চলাফেরা করি মাথার ওপর বাবার ছায়া কী জিনিস হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারি। বাবা হারানো স্মৃতি আজও ভুলতে পারিনি। বাবা সবসময় আমাদের নিয়ে গর্ব করতেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দু’হাত তুলে তোমার আত্মার চির শান্তি প্রার্থনা করি, আর করছি। প্রার্থনা করি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমাকে সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানে অধিষ্টিত করুন, আর সেখানেই যেন তোমার সাথে আবারও দেখা হয়। সে পর্যন্ত তুমি ভালো থেকো। আমিন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ