• শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে বসেছে পিপড়ার ডিমের হাট

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ৬০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৩

শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতি উপজেলার গারো পাহাড়ের প্রত্যন্ত গ্রামে বসেছে পিঁপড়ার ডিমের হাট। এ হাটে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পিঁপড়ার ডিম বিক্রি।এক শ্রেণির বেকার ও কর্মহীন শতাধিক আদিবাসী-বাঙালি এ পেশার সাথে জড়িত থেকে সংসার চালাচ্ছে।জেলার সীমান্তবর্তী ৩ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট এবং জামালপুর জেলার বক্সীগঞ্জের গারো পাহাড়ের শাল-গজারি বন এলাকা থেকে আসে এসব ডিম বিক্রেতা।পিপড়ার ডিম সারা বছর পাওয়া যায়না। বর্ষার সময় মূলত এক শ্রেণির লাল বড় পিঁপড়া বনাঞ্চলের শাল-গজাড়ি গাছের মগ ডালে পাতা ও গাছের গর্তের মধ্যে বাসা তৈরী করে ডিম পেড়ে থাকে। ওই ডিম বড়শিতে মাছ শিকারের জন্য সৌখিন মৎস শিকারীরা ব্যবহার করে থাকে।সরেজমিনে ঘুরে জানাযায়, শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতি উপজেলার প্রত্যন্ত রাংটিয়া এবং বাঁকাকূড়া গ্রামে বসে ওই ব্যাতিক্রমি পিঁপড়ার ডিমের হাট। হাটে বিকেলের মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ডিম সংগ্রকারীরা এসে জড়ো হয়। পরে সন্ধ্যা নেমে এলেই পাইকাররা এক হাজার টাকা কেজিতে ওই ডিম সংগ্রকারীদের কাছ থেকে ডিম কিনে নেয়। পরবর্তিতে তারা ওই ডিম শেরপুরসহ ঢাকায় বিক্রি করে থাকে।তবে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাহাড়ি শাল-গজাড়ি বনে এবং আম, জাম, লিচুগাছসহ বিভিন্ন গাছ থেকে বাঁশের আগায় নেট বা জাল দিয়ে এক ধরণের ঠোঙা তৈরী করে ওই ডিম সংগ্রহ করা হয়। সারা দিন ঘুরে ঘুরে ৩০০ গ্রাম থেকে সর্বোচ্চ এক কেজি পর্যন্ত ডিম সংগ্রহ করতে পারে কেউ কেউ।রাংটিয়া পিঁপড়ার ডিমের বাজার ছাড়াও পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয় পাইকাররা গিয়ে ডিম সংগ্রহ করে থাকে এবং পরে তা শেরপুরসহ ঢাকায় বিভিন্ন মৎস শিকারীদের কাছে বিক্রি করে থাকে তারা।পাহাড়ি ওই লাল পিঁপড়া প্রথমে শাল বা গজারি গাছের মগ ডালে তাদের মুখের এক রকম আঠার মতো লালা দিয়ে দুটি পাতাকে এক করে ঠোঙার আকৃতি তৈরী করে। পরে সেখানে মেয়ে পিঁপড়া বাসা বেঁধে ডিম পাড়ে। এই জাতীয় পিঁপড়া মাটিতেও অনেক সময় ডিম পাড়ে। তবে গাছের পাতার মধ্যে বেশি নিরাপদ মনে করেবাকাকূড়া গ্রামের ডিম সংগ্রকারী আদিবাসী ডেনিয়েল সাংমা জানায়, আমরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাহাড়-জঙ্গল ঘুরে ডিম সংগ্রহ করি। মোটামুটি ৩০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারি। প্রতি কেজি এক হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। এতে আমার সংসার চলে।একই গ্রামের জামাল মিয়া জানায়, গাছ থেকে এ ডিম পাড়তে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এছাড়া সাপ-বিচ্ছু, মৌমাছি আর হাতির ভয় থাকে। তবুও টাকার জন্য এ কাজ করি।এ বিষয়ে রাংটিয়া গ্রামের পাইকার অবিনাশ কোচ জানায়, পাহাড়ে এখন কোন কাজ নাই। তাই এই পাহাড়ি এলাকায় আদিবাসী-বাঙালি প্রায় দুই শতাধিক অভাবি মানুষ এ পেশার সাথে জড়িত। কারণ, প্রায় সকলেরই বিভিন্ন সমিতির ঋণের কিস্তি দিতে হয়।বছরের এই সময়ে পাহাড়ে কোন কাজ না থাকায় বেকার আদিবাসী-বাঙালিরা এ ডিম সংগ্রহ করে থাকে। তবে এ ডিম সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক কষ্ট হয়। সেই সাথে হাতি, সাপ ও মৌমাছির আক্রমণের ঝুকিও রয়েছে বলে স্থানীয় গ্রামবাসী এবং ডিম সংগ্রহকারীরা জানান।যুগ যুগ ধরে মানুষ জীবিকার তাগিদে নানা ধরনের পেশায় যুক্ত হচ্ছে। তবে সরকার থেকে এই পিঁপড়ার ডিম এর চাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেয়া হলে ঝুকি নিয়ে তাদের আরধ বন-জঙ্গল থেকে ডিম সংগ্রহ করতে হবে না। বাসায় বসেই এ পিঁপড়ার ডিমের ব্যবসা করতে পারবে। সেই সাথে পাহাড়ি বেকারদের সাবলম্বির পথও সুগম হবে বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল।এবিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস এর সাধারণ সম্পাদক মারুফুর রহমান জানায়, আসলে প্রকৃতি বা জীববৈচিত্র ধ্বংস করা ঠিক নয়। এতে পরিবেশের ক্ষতি হয়। গাছের মগ ডালের পিঁপড়ার ডিম বা পিঁপড়া বনের পাখ-পাখালির খাদ্য। তাদের খাদ্য ঘাটতি হলে পাখিদের অস্তিত্ব সংকট দেখা দিতে পারে। তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রকারীদেরও উপায় নেই অন্য পেশায় যাওয়ার। তবে আমরা জানি পিঁপড়ার ডিমের চাষ পদ্ধতি রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার বা সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে তাদের পিঁপড়ার ডিম চাষ পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে ওইসব মানুষকে চাষাবাদের সুযোগ করে দেয়া যায় তবে তারা প্রকৃতির পিঁপড়ার বাসা ভাঙ্গা বা ডিম সংগ্রহ করার কাজে যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ