• শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ১৩৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৩

শ্রীবরদী(শেরপুর)প্রতিনধি:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক সময় উঁচু তালগাছে কিংবা নারিকেলগাছে বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা দেখা যেত। কিন্তু গ্রাম বাংলার পল্লী এলাকায় এখন আর আগের মত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বর্তমানে এই পাখিটি বিলুপ্ত হতে চলেছে । সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। খড়, নারকেল গাছ বা তালগাছের কচি পাতা, ঝাউ ও কাশ বনের লতাপাতা দিয়ে উঁচু তালগাছের চমৎকার বাসা তৈরি করতো এ পাখি। বাসাটি দেখতে যেমনি আকর্ষণীয় তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের নিপুণ বাসা ভেঙে পড়ে না। বাবুই পাখির শক্ত বুননের এ বাসাটি টেনে ছেড়াও কষ্টকর। বাবুই পাখি বাসা তৈরির পর সঙ্গী খুঁজতে যায় অন্য বাসায়। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইয়ের সাথী বানানোর জন্য কত কিছুই না করে এরা। পুরুষ বাবুই নিজেকে আকর্ষণীয় করার জন্য খাল, বিল ও ডোবায় নেচে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে। বাসা তৈরির কাজ অর্ধেক হলে কাঙ্খিত স্ত্রী বাবুইকে সে বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলে কেবল সম্পর্ক গড়ে। স্ত্রী বাবুই পাখি বাসা পছন্দ হলে বাকী কাজ শেষ করতে পুরুষ বাবুই পাখির সময় লাগে চার দিন। স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই মনের আনন্দে শিল্প সম্মত ও নিপুণ ভাবে বিরামহীন কাজ করে বাসা তৈরি করে। অফুরন্ত যৌবনের অধিকারী প্রেমিক যত প্রেমই থাকুক প্রেমিকার জন্য প্রেমিকার ডিম দেয়ার সাথেই প্রেমিক বাবুই খুঁজতে থাকে আরেক প্রেমিকা। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ছয়টি বাসা তৈরি করতে পারে। ধান ঘরে উঠার মৌসুম হলো বাবুই পাখির প্রজনন সময়। দুধ ধান সংগ্রহ করে স্ত্রী বাবুই বাচ্চাদের খাওয়ায়। এরা ভাল গাছেই বাসা বাধে বেশি। সঙ্গতকারণে বাবুই পাখি তালগাছ ছেড়ে ভিন্ন গাছে বাসা বাধছে। এক সময় শ্রীবরদী উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে দেখা যেত শত শত বাবুই পাখির বাসা কিন্তু বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেখা মিলছে দু’একটি বাবুই পাখির বাসা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক শ্রেণির মানুষ অর্থলোভে বাবুই পাখির বাসা সংগ্রহ করে শহরের ধনীদের কাছে বিক্রি করছে। এই বাবুই পাখির বাসা শোভা পাচ্ছে ধনীদের ড্রইং রুমে। বাবুই পাখির অপূর্ব শিল্প শৈলীতে বিষ্মিত হয়ে কবি রজনীকান্ত সেন তার কবিতায় লিখেছিলেন ‘বাবুই পাখি ডাকি, বলছে চড়াই কূড়ের ঘরে থেকে করিস শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকার পরে তুমি কষ্টপাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে”। বাবুই পাখি ও তার বাসা সংরক্ষনে সংশ্লিষ্ট জীব ও পরিবেশ অধিদপ্তর আরও উদ্যোগী হওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করেন পাখি প্রেমি মানুষ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ