গণঅভ্যুত্থানের ভয়ে ডিজিটাল অস্ত্র ইন্টারনেট শাটডাউন প্রয়োগ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ১০৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৩

ক্ষমতাসীন সরকার গণঅভ্যুত্থানের ভয়ে ভীত হয়ে নতুন ডিজিটাল অস্ত্র ‘ইন্টারনেট শাটডাউন’ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি এটিকে ‘ডিজিটাল নির্যাতন’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেন।

রবিবার (২৩ জুলাই) গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ‘ইন্টারনেট-শাটডাউনসহ সব ধরনের ডিজিটাল-নির্যাতনের’ প্রতিবাদে বিএনপির মিডিয়া সেল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

লিখিত বক্তব্যে ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান এই জনবিচ্ছিন্ন, অত্যাচারী ফ্যাসিস্ট সরকার কথায় কথায় ডিজিটাল বাংলাদেশের কৃতিত্ব দাবি করে। কিন্তু আমরা যদি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেখি, তবে দেখা যাবে বাংলাদেশে ডিজিটাল সেবার অবস্থা কতটা শোচনীয়। বরং সাইবার জগতে মানুষের যেটুকু স্বাভাবিক অধিকার অবশিষ্ট আছে, সেই অধিকারও কেড়ে নেওয়ার গভীর চক্রান্ত করছে এই আওয়ামী লীগ সরকার।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘নাগরিকদের সেবা প্রদান এবং তাদের অধিকারকে সংরক্ষণ করার জন্য দেশে একাধিক প্রতিষ্ঠান আছে। তেমন একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলা এই প্রতিষ্ঠানটির কাজ হলো দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচালনা এবং সেবার মান দেখভাল করা। কিন্তু জনগণের টাকায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানকেই বর্তমান স্বৈরাচারী সরকার জনগণের বিরুদ্ধে নিপীড়নের আরেকটি আধুনিক হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মত প্রকাশের অধিকারকে।’

গত ১২ জুলাই একদফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ‘ঐতিহাসিক সমাবেশ’ চলাকালে ওই এলাকার ইন্টারনেট সুবিধা বিচ্ছিন্ন বা বিঘ্নিত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির মহাসচিব। অথচ একই দিন একই সময়ে সরকারি দলের সমাবেশ স্থলের ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশে ইন্টারনেট শাটডাউনের এটিই প্রথম ঘটনা নয়। ইতিপূর্বে খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা, রাজশাহী এবং ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশগুলোতেও  ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ আগ্রহী মহলকে করা হয়েছে বিচ্ছিন্ন।’

তিনি উল্লেখ করেন, ইন্টারনেট অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন এক্সেস-নাউ-এর ২০২২ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইন্টারনেট শাটডাউনের সংখ্যার হিসাবে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে। তালিকায় এগিয়ে থাকা চারটি দেশে (ভারত, ইউক্রেন, ইরান এবং মিয়ানমার) বর্তমানে বিদ্রোহ অথবা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। যা তাদের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণ বলে তারা দাবি করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব রাখেন, ‘পঞ্চম স্থান অধিকারকারী বাংলাদেশেও কি যুদ্ধ চলছে? কাদের বিরুদ্ধে সরকার সেই যুদ্ধ করছে?’

চলতি বছরও ইতোমধ্যে ছয়বার ইন্টারনেট-শাটডাউন করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘গত ১০ ডিসেম্বরে গোলাপবাগে বিএনপির সমাবেশের আগেও ২০টি আন্তর্জাতিক সংগঠন বাংলাদেশ সরকার বরাবর খোলা চিঠি দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা চালু রাখার আহ্বান জানিয়েছিল; যা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। এসবের কোনও কিছুতেই সরকার কর্ণপাত করছে না।’

তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট পরিষেবা আজ শুধু সোশ্যাল মিডিয়ার বিনোদনেই সীমাবদ্ধ নয়। এটা আর্থিক লেনদেন, শেয়ার, শিক্ষা, চিকিৎসা, আইন, ডাটা, আউটসোর্সিং, বৈদেশিক ভ্রমণ, কর্মসংস্থান ও চাকরি-সাক্ষাৎকারসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়ে জীবন-জীবিকার এক অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডিজিটাল-রাইটস বা ডিজিটাল অধিকার ব্যাপারটি হয়তো অনেকের কাছে নতুন মনে হতে পারে। কিন্তু এটি সর্বজনবিদিত জরুরি একটি বিষয়। এক্ষেত্রে ইন্টারনেট-শাটডাউনের ঘটনাকেই আমরা বিবেচনায় নিয়ে বলতে পারি, এটি নাগরিক অধিকারের ভয়ঙ্কর লঙ্ঘন। এটা গুম-খুনের মতোই একটি অপরাধ। কোনও ব্যক্তি গুমের শিকার হলে কেবল একজন হারিয়ে যান। কিন্তু কোনও স্থানের ইন্টারনেট শাটডাউন করা হলে তার শিকার হয় দেশ-বিদেশের লাখো কোটি মানুষ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ