• রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন

আধুনিক পুলিশের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ৫৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩

স্মার্ট প্রিভেনশন সিস্টেম, স্মার্ট মনিটরিং অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স কানেকশন সিস্টেম উন্নয়ন, স্মার্ট রেসপন্স সিস্টেম, স্মার্ট ইনভেস্টিগেশন সিস্টেম, ডিজিটাল ক্রিমিনাল ডেটাবেজ, স্কিল্ড ট্রেনিং প্রোগ্রাম ও সাইবার ক্যাপাসিটি বিল্ডিং সেই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী, কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে স্মার্ট পুলিশ বিনির্মাণে কাজ করছে পুলিশ সদর দফতর। জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে দক্ষতা-সম্পন্ন পুলিশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশে প্রযুক্তির অনেক সংযোজন ঘটেছে। মেধা এবং প্রযুক্তির সমন্বয় করে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে দক্ষ করে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সদর দফতরের সূত্র বলছে, আগে অনেক ক্লুলেস ঘটনা সমাধান করা সম্ভব হতো। অনেক বিষয় ডিটেক্ট করা যেতো না। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসে দেখা যাচ্ছে, যেসব মামলা তদন্ত করা হচ্ছে এবং যেসব মামলা ক্লুলেস রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে মামলার তদন্তে ক্লু উদঘাটনের হার ৯৫ শতাংশ। তদন্তে প্রযুক্তি সংযুক্ত হওয়ার কারণেই এ সাফল্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ বর্তমান সময়ে এসে যে ধরনের প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে কাজ করছে, তা পাশ কাটিয়ে কীভাবে অপরাধ করা যায়, সে ব্যাপারে সব সময় সচেষ্ট থাকে অপরাধীরা। অপরাধ করার পর আলামত নষ্ট করাসহ ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে তৎপর তারা। অপরাধীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা তেমন না থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকার বিষয়গুলো নজরে এসেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। বিভিন্ন মামলা তদন্ত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ফলে কীভাবে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, সেসব বিষয় নিয়েও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠে থাকা পুলিশ সদস্যদের দিক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন ধরনের অপরাধ এবং অপরাধ প্রবণতা মোকাবিলায় পুলিশকে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বর্তমান সময়ে অপরাধীরা যে শুধু তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে শুধু তা-ই নয়, পুলিশ কীভাবে অপরাধ তদন্ত করছে, কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সে বিষয়েও অপরাধীরা দক্ষ হয়ে উঠছে। এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সচেতনতার অভাবও অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের সূত্র বলছে, পুলিশ সদস্যরা তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের হালনাগাদ করে নেওয়ার বিষয়ে বেশ কিছু গাফিলতি দেখা যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে অনুসন্ধান করলে তদন্ত অনেকটাই সহজ হয়। বর্তমানে দ্রুততম সময়ে রেডিও লোকেশন, মোবাইল ফোনের কল, রেজিস্টার ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করলে অনেক কম সময়ে অপরাধের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও চলমান রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন অনেকে।

পুলিশকে আধুনিকায়ন করতে এরইমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সমন্বয়ে সভা হয়েছে। সেখানে ভবিষ্যৎ পুলিশ এবং স্মার্ট পুলিশের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। সমন্বয় সভাযগুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকেও আধুনিক পুলিশের বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যৎ কর্ম-পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। আধুনিকতার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হবে। ইনোভেশনে উৎসাহ দেওয়া হবে। সমস্যার সমাধানে ব্যবস্থাওে রাখা হবে। ফলে মানবিকতা এবং সংবেদনশীলতা থাকবে আগামী দিনের পুলিশের মধ্যে।

বিজ্ঞানমনস্ক মানবিক পুলিশ গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে পুলিশের অবদানের কথা উল্লেখ করে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মিডিয়া মনজুর রহমান বলেন, ‘মামলা ডিটেকশনে পুলিশের সাফল্য রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশ দক্ষতা দেখিয়েছে।’

বিভিন্ন সময় প্রয়োজনের তাগিদে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট বাড়ানোর কারণে প্রতিটি সেক্টরে এর সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। শিল্পাঞ্চলে আগে যেমন শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ছাড়াও বিভিন্ন কারণে আন্দোলন, কিংবা রাস্তা অবরোধের মতো ঘটনা ঘটতো। শিল্প পুলিশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এগুলো কমানো সম্ভব হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করছে। নৌপুলিশ নদীপথে নিরাপত্তায় দায়িত্বে রয়েছে। জঙ্গি দমনে র‌্যাবের পাশাপাশি বিশেষ ইউনিট, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট, আন্টি টেরোরিজম ইউনিট দক্ষতার সঙ্গে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। রেলের নিরাপত্তায় কাজ করছে রেলওয়ে পুলিশ। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য গঠন করা টুরিস্ট পুলিশ, যারা বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে কাজ করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ‘সন্ত্রাসী এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে সবসময় পুলিশকে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। এজন্য পুলিশের চরিত্র এবং নিজেদের কন্ট্রোল রাখা অনেক ক্ষেত্রেই দুষ্কর হয়ে পড়ে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই নিয়মিত প্রশিক্ষণের বিষয়টি এবং তদারকের বিষয়গুলো জোরালোভাবে রাখা প্রয়োজন। কোনও সদস্যের কোনও বিচ্যুতি ঘটলে, তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিয়ে মোটিভেশন করাতে হবে। মোটিভেশনের সম্ভব না হলে তাকে ছেড়ে দিতে হবে। পুলিশের কোনও সদস্য অপরাধ করে পার পেয়ে গেলে, সেই সিস্টেমের ওপর অনেকাংশই প্রভাব পড়ে। জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করে যেতে হবে পুলিশকে, যা পুলিশিংয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ