• শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা উচিত

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ১৩৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় শনিবার, ২৪ জুন, ২০২৩

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানভেদে আর্থিক প্রয়োজনীয়তা ও খরচের ধরন ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মানদণ্ড সব প্রতিষ্ঠানে একই হওয়া উচিত।

শনিবার (২৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও দেশের ৪৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান আর্থিক অনুশাসন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে অর্থ-সংক্রান্ত সব বিতর্ক নিরসন করা সম্ভব হবে। তবে আর্থিক বিষয় যারা দেখভাল করছেন তাদের দক্ষতা বাড়ানোও এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরি বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, আমাদের প্রকল্পগুলো নিয়ে কথা হয়। অনেকবার কথা হয়েছে উপাচার্যদের নিয়ে, ট্রেজারারকে নিয়ে। যারা প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের নিয়ে আমরা কর্মশালা বাস্তবায়ন করবো। কী করে এই প্রকল্প বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া ঠিক রাখা যায়। কিন্তু সেটা আমরা করতে পারিনি। এটি করা দরকার এ জন্য যে প্রকল্প প্রণয়ন থেকে পরিকল্পনা স্বচ্ছ থাকলে সমস্যা হয় না। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প এখানে একটু বাড়িয়ে নিলাম, এখানে একটু কমিয়ে নিলাম। এভাবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভুগছে। দীর্ঘদিন ধরে বোঝা কাঁধে নিয়ে বেড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো সময়মতো শেষ করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণের চিন্তা নেই, অন্তত আওয়ামী লীগ সরকারে কখনও ছিল না, এখনও নেই। আশা করি ভবিষ্যতেও থাকবে না। কিন্তু সরকারের বিধিবিধান মেনে চলতে হয়। আপনাদের যে বিধিবিধান রয়েছে, সেগুলো মেনে চলতে হবে।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোয়ন্ননে শিক্ষক পুল করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি দরকার সেটা হলো, আমাদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উপাচার্য ও ট্রেজারার ছাড়া আর অধ্যাপক পদের কেউ নেই। এখানে অধ্যাপক তৈরি হতে ১৫ বছর লাগবে। তাহলে আমাদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক ছাড়াই বছরের পর বছর চলবে?

উপাচার্যদের কাজকে এগিয়ে নিতে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উপাচার্যরা নিয়োগ, ঠিকাদারিসহ বহুমুখী অযাচিত চাপে থাকেন। অনেক সময় সহকর্মীরাও তাদের অসহযোগিতা করে থাকেন। ফলে উপাচার্যদের পক্ষে কাজ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। সম্মানহানির ভয়ে অনেকেই উপাচার্য হতে আগ্রহী হন না। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই অনভিপ্রেত চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি।

এ সময় ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান ও সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেজিস্ট্রাররা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহরর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

পরে ২০২১-২২ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এপিএ কাযক্রম বাস্তবায়নে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অর্জনকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও ফোকাল পয়েন্টদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে সনদ দেন শিক্ষামন্ত্রী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ