• শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারে সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্য, নাজেহাল পর্যটক

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ৩৯ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় রবিবার, ১৮ জুন, ২০২৩

আবু আবদুল্লাহ রোহিত
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার।সুনীল জলরাশি। বিস্তৃত বালুকাবেলা। প্রবাল পাথরের জলকেলি কিংবা উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড় নিয়ে যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। সমুদ্রের কোল ঘেঁষে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ এই সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে তুলেছে অনেক গুণ। কিন্তু এত কিছুর পরও দেশের সর্ববৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের প্রতিটি সেক্টরেই বিরাজ করছে নানা অনিয়ম ও অসঙ্গতি। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে প্রতিনিয়তই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পর্যটকদের। অব্যবস্থাপনার যাতাকলে পড়ে ধুকছে অর্থনীতির চাকা সচলকারী অন্যতম এই খাতটি। জেলা প্রশাসন, বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, পর্যটন পুলিশসহ এধরনের আরও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেলেও আজও শৃঙ্খলা ফেরেনি কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে। বছরজুড়েই নেতিবাচক আলোচনায় শিরোনাম হতে থাকে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি।
এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের গৌরব বহনকারী এ পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, পর্যটন শিল্প রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের কক্সবাজারমুখী করতে এসব নানা অনিয়ম রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি। অন্যথায় একটা সময় এসে কক্সবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে পর্যটকরা।
জানা গেছে, সৈকতে ভিক্ষুক, গরুর অবাধ বিচরণ, বডি ম্যাসেজ, চিপস্, পানি, সিগারেট ও ঝালমুড়িওয়ালাদের উৎপাত দীর্ঘদিনের। সৈকতে ফটোগ্রাফার, ঘোড়সওয়ারী ও বীচবাইক ব্যবসায়ীদের গলাকাটা বাণিজ্যের যন্ত্রণা। ফলে নানাবিধ তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্যটন এলাকা ত্যাগ করেন বেশিরভাগই পর্যটক। অভিযোগ রয়েছে, ফটোগ্রাফারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ছবি তোলার কন্টাক্ট হলেও ছবি তোলার পর একটি ছবি একাধিকবার তুলে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হয়। ফটোগ্রাফারের সিন্ডিকেট তীব্র আকারে ধারণ করছে। সম্প্রতি বন্ধুদের নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে এসে নাজমুল আরাফাত নামের এক শিক্ষার্থী তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান, প্রতি মিনিটে একজন কলা, চানাচুর, চা-কফি বিক্রেতাদের উৎপাত। প্রতি মিনিটে একজন ভিক্ষুকের আবদার। একটু পরপর ছবি তোলেন, বাইকে ওঠেন, ঘোড়ায় ওঠেন। আছে, ক্ষুদে থেরাপিস্ট (হাত পা মাথা বানায় দেয়) তাদের স্পর্শ। সব মিলিয়ে এক বিরক্তিকর পরিস্থিতি। নাজমুল আরাফাত বলেন, ‘সারাবিশ্বে ট্যুরিস্টদের প্রতি স্থানীয়দের আচরণ হয় এক রকম যাতে বারবার আসে, অন্যদের আসতে অনুপ্রাণিত করে। আর আমাদের দেশে ট্যুরিস্টদের প্রতি তাদের আচরণ- পাইছি আপনাকে জীবনে আর নাও আসতে পারেন, তাই ডলা যা দেওয়ার এখনই দেই!’ পরিবেশ ট্যুরিস্ট বান্ধব না করে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত বলে গলা ফাটালে কোন লাভ হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কয়েকজন পর্যটক এ প্রসঙ্গে বলেন, তিন দিনে কক্সবাজার ভ্রমণ করে বিমান ভাড়া হোটেলে থাকা খাওয়ায় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় সে টাকা দিয়ে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সহজে ভ্রমণ করা যায়। তাদের প্রশ্ন, তাহলে মানুষ কেন কক্সবাজার ভ্রমণ করবে? তারা বলেন, পর্যটকদের সাথে পর্যটন ব্যবসায়ীদের দুর্ব্যবহার অত্যন্ত নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য। এটি দেশের জন্যও অপমানজনক। এর দায় এড়াতে পারেন না জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরাও। পর্যটকদের অভিযোগ, হোটেল থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, যানবাহনসহ সবখানে বাড়তি ভাড়া ও অসদাচারণের শিকার হওয়ার পাশাপাশি চরম হয়রানিতে পড়ছেন তারা। সৈকত ব্যবস্থাপনার জন্য বিচকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকলেও কেন দিন দিন নানা উৎপাত বাড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এ বিষয়ে জানতে, কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাদের মুঠোফোনে পাওয়া যায় নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ