• শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

গ্রামীণ সেবা সহজ করেছে বুড়িচং সদর ইউনিয়ন পরিষদের সিটিজেন চার্টার!

স্বাধীন ভোর ডেস্ক / ১০৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশের সময় শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩

আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয়, বুড়িচং
গ্রামীণ মানুষের অন্যতম প্রধান সেবা কেন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ।সরকারি সেবা ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও মানের উন্নয়ন। নাগরিক সনদে সেবার মানদণ্ড নির্ধারিত ও সেবাপ্রাপ্তির অঙ্গীকারবদ্ধ ইউনিয়ন পরিষদের সিটিজেন চার্টার। জনগণের ভোগান্তি দূর করার লক্ষ্যে ও সেবার মান নিশ্চিত করতে সিটিজেন চার্টার সকলের সামনে প্রকাশ করে প্রশংসায় ভাসছে কুমিল্লার বুড়িচং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব মোঃ জয়নাল আবেদীন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিনিয়র তথ্য অফিসার শরীফ মাহমুদ অপুর পিতা।(২০ মে ২০২৩) শনিবার পরিষদে গিয়ে দেখা যায় পরিষদের ফটকে ঝোলানো সিটিজেন চার্টার বা নাগরিক সেবা সনদ।এই নাগরিক সেবা বুড়িচংয়ের মধ্যে প্রথম।এটি চোখ খুলেছে গ্রামের মানুষের। সহজ হয়েছে নাগরিক সেবা।তবে সিটিজেন চার্টার সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে গ্রামীণ জনগণের বিশাল একটি অংশ। এটির কাজ কী তাও জানে না লোকজন। অজ্ঞতার কারণেই সেবা নিতে গিয়ে পয়সা খরচ হয় তাদের। পড়তে হয় ভোগান্তিতেও। তবে খুব দ্রুত এমন সেবার মাধ্যমে সচেতনতায় পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।বুড়িচং সদর ইউনিয়ন পরিষদের হরিপুর এলাকার এক মহিলা বাসিন্দা জানান,সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলেন তিনি। জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য তার কাছে ৫০ টাকা নিয়েছে উদ্যোক্তা।ওই নারীর ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদের ঝোলানো সিটিজেন চার্টারে পরিষদের সেবাগুলো ও মূল্য উল্লেখ রয়েছে। তা দেখেই জন্ম নিবন্ধন নিতে ৫০ টাকা, সেটি জানতে পেরেছেন।এমন উদ্যোগ নেওয়াতে পরিষদের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান ওই মহিলা। ইউনিয়ন পরিষদের চৌদ্দটি সেবার মধ্যে দশটি সেবাই ফ্রি করে দিয়েছে বুড়িচং সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যন আলহাজ্জ্ব ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবেদীন। স্বচ্ছতা আনার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে বসিয়েছেন সিসি ক্যামেরা। করছেন মনিটরিং। এতগুলো সেবা একসঙ্গে জয়নাল আবেদীন চেয়ারম্যন প্রথম শুরু করেছেন। তার পথ অনুসরণ করে বুড়িচং উপজেলা এমনকি কুমিল্লা জেলার অন্যান্য ইউপি চেয়ারম্যনরা এসব পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছেন।তবে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদে সিটিজেন চার্টার দেখা যায়নি।এ সম্পর্কে জানেন না এসব ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দা। ফলে এর সুফল তারা পাচ্ছেন না।বুড়িচং সদরের মতো অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের যেন সিটিজেন চার্টার প্রকাশ দেখতে চায় সচেতন নাগরিকরা। সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ সেবা প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে জানান ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ্ব মোঃ জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সরাসরি এখানে সেবা নিতে আসেন। সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতেই এটি প্রকাশ করা হয়েছে। এলাকার সচেতন নাগরিকরা এটি দেখে নিজেদের প্রাপ্য সেবা বুঝে নিচ্ছেন। পরিষদের কাজে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাও এসেছে। আমরা জনগণকে তাদের প্রাপ্য সেবা সম্পর্কে জানানোর ব্যবস্থা করেছি। ইউনিয়নের ১৪ টি নাগরিক সেবার মধ্যে ১০ টি সেবা ফ্রি করেছি। এর মধ্যে একটি সেবা মৃত্যু নিবন্ধন এর টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিতে হবে সেটাও আমি বুড়িচং সদর ইউনিয়ন বাসীর জন্য ফ্রি করেছি। মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারী ফি আমি প্রতি মাসে যে সম্মানি ভাতা পাই সেখান থেকে সরকারের কোষাগারে চালান জমা দিবো।

’এছাড়াও তিনি হরিপুর, জরইন ও যদুপুর গ্রামের যুবকদের জন্য হরিপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়রে সামনে নিজ অর্থায়নে একটি বিশাল খেলার মাঠ করে দিয়েছেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বিভিন্ন মসজিদের উন্নয়নে আর্থিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। শীতের সময় শীতবস্ত্র এবং ঈদের সময় গরীবদের মধ্যে শাড়ী-লুঙ্গি দিয়ে যাচ্ছেন নিয়মিত।

এ ব্যাপরে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাহিদা আক্তার বলেন,‘ইউনিয়ন পরিষদগুলো একেবারেই প্রান্তিক মানুষের সেবাকেন্দ্র। এখানে কী ধরনের কী কী সেবা পাওয়া যায় সেটি জনগণ আগে থেকেই জানে। সিটিজেন চার্টারগুলোয় কোন সেবা কীভাবে পাওয়া যাবে, কত দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে, সেবার মূল্য কত—সেটি উল্লেখ থাকে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশের আগেই জেনে যায় সাধারণ মানুষ।আমিও চাই সদর ইউনিয়নের মতো সকল ইউনিয়নে সিটিজেন চার্টার প্রকাশ করে জনগণের সেবার মান নিশ্চিত করুক।সরকারি সেবা ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও মানের উন্নয়ন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ